কুরআন গ্যালারি বিষয়
Khushu
11টি প্রবন্ধ
Before Salah সালাত কেন সবার আগে: যে ভিত্তির ওপর সবকিছু দাঁড়িয়ে আছে সালাত কেবল তালিকায় থাকা আরও একটি ভালো কাজ নয়। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এর হিসাব নেওয়া হবে, এটি ছিল রাসূলের শেষ অসিয়ত, এবং প্রথম যুগের মুসলিমদের কাছে এটিই ছিল ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী—কুরআন এবং দুটি প্রামাণ্য হাদিসের আলোকে বিষয়টি এখানে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধ তিনি কেবল অন্তরই চান: যান্ত্রিকতা নয়, বরং উপস্থিতি ইবাদতের প্রতিটি বাহ্যিক কাজই পরিমাপযোগ্য—কয় রাকাত নামাজ পড়া হলো, রোজা রাখা হলো কি না, কিংবা কত টাকা দান করা হলো। কিন্তু আল্লাহ মূলত যা মূল্যায়ন করেন তা এসবের গভীরে লুকিয়ে থাকে: আর তা হলো সেই অন্তর, যা এই ইবাদতগুলো সম্পন্ন করেছে। আল্লাহ আসলে আমাদের কাছে কী চান এবং অন্য কিছুর কাছে এই অন্তর সঁপে দেওয়ার পরিণতিই বা কী, তা নিয়েই এই আলোচনা। প্রবন্ধ দুটি জান্নাত: মৃত্যুর আগেই যে প্রশান্তির শুরু পূর্ববর্তী যুগের মুসলিমরা এমন একটি দ্বিতীয় জান্নাতের কথা বলেছেন, যেখানে চিরস্থায়ী জান্নাতের আগেই প্রবেশ করা যায়—এমন একটি অন্তর যা আল্লাহর পরিচয়ে এত বেশি পূর্ণ থাকে যে, অন্য কোনো কিছুই সেখানে স্থান পায় না। ইবন রজব, ইবনুল কাইয়্যিম এবং স্বয়ং কুরআন এই জান্নাত সম্পর্কে কী বলে, তা নিয়েই এই আলোচনা। প্রবন্ধ যে পাল্লায় আপনি দাঁড়ান: ইবনুল কাইয়্যিমের মতে সালাতের পাঁচটি স্তর সালাতের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত বাহ্যিক বিষয়গুলোই পরিমাপ করি—সময়মতো পড়লাম কি না, রাকাত পূর্ণ করলাম কি না। কিন্তু ইবনুল কাইয়্যিম এর চেয়েও কঠিন একটি মাপকাঠি রেখে গেছেন, যা দিয়ে মাপা যায় শরীর যখন জায়নামাজে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন আপনার অন্তরের অবস্থা কেমন ছিল। প্রবন্ধ চোখের শীতলতা: সালাত কেন বোঝা নয়, বরং প্রশান্তির উৎস রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতকে তাঁর চোখের শীতলতা বলেছেন—এটি কোনো পার পাওয়ার মতো বোঝা নয়, বরং এমন এক আশ্রয় যেখানে তিনি প্রশান্তি খুঁজতেন। সেই প্রশান্তির অনুভূতি আসলে কেমন, আর কেনই বা আমাদের অনেকেই জায়নামাজে দাঁড়িয়ে ঠিক এর উল্টোটা অনুভব করি। প্রবন্ধ যে প্রশান্তি এটি এনে দেয়: খুশু আপনার সালাতে আসলে কী পরিবর্তন আনে খুশু সালাতের এমন কোনো সাময়িক অনুভূতি নয় যা আপনার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে—বরং এটিই সালাতকে একটি বোঝামুক্ত প্রশান্তির আশ্রয়ে পরিণত করে, আর এর প্রভাব কেবল জায়নামাজেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রবন্ধ যে নামাজ কবুল হয় না: কুরআন ও সুন্নাহ কেন খুশুর ওপর জোর দেয় সূরা আল-মুমিনুন সফলকামদের তালিকা শুরু করেছে নামাজে খুশু বা একাগ্রতার কথা দিয়ে, কত রাকাত নামাজ পড়া হলো তার হিসাব দিয়ে নয়। ইবনে আবি শায়বাহর মুসান্নাফ-এ বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, একজন মানুষ ষাট বছর ধরে নামাজ পড়ার পরও তার একটি নামাজও কবুল না-ও হতে পারে। একটি নামাজ কেবল 'শুদ্ধ' হওয়া এবং সেটি আল্লাহর কাছে 'কবুল' হওয়ার মাঝের এই পার্থক্য নিয়ে কুরআন ও সুন্নাহ কী বলে, তা নিয়েই এই আলোচনা। প্রবন্ধ মাটি ভিজে যাওয়া পর্যন্ত: রাসূলের সালাত ও তাঁর খুশু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কীভাবে সালাত আদায় করতেন, তার পাঁচটি প্রামাণ্য বিবরণ— যাঁতাকলের মতো আওয়াজ হওয়া বক্ষদেশ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে ফুলে যাওয়া পা এবং এমন এক রাত যার শেষে তাঁর চেহারার নিচের মাটি ভিজে গিয়েছিল। প্রবন্ধ খুশু-এর ফজিলত: বিনম্র সালাতের বিনিময়ে আল্লাহ যা দান করেন সালাতে খুশু বা বিনয় বাইরে থেকে পরিমাপ করা যায় না, তবুও কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এর বিনিময়ে আল্লাহ কী দান করেন—সফলকামদের মর্যাদা, নবজাতকের মতো নিষ্পাপ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন, অতীতের গুনাহ মাফ এবং জান্নাতে একটি সুনিশ্চিত ঘর। প্রবন্ধ খুশু-এর অন্তর্নিহিত রূপ: এটি হৃদয়ের অবস্থা, শরীরের ভাষা নয় খুশুকে প্রায়শই স্থিরতা, ধীর নড়াচড়া বা অবনত দৃষ্টির সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এর প্রাথমিক পরিচয় এগুলো নয়—বরং এটি হলো হৃদয়ের এমন এক অবস্থা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেবল যার অনুসরণ করে। প্রবন্ধ যে অন্তর হারিয়ে গেছে: যা নীরবে আপনার সালাত থেকে খুশু কেড়ে নেয় খুশু কেবল এক ওয়াক্তের খারাপ সালাতের কারণে হারিয়ে যায় না—বরং তিনটি সাধারণ বিষয় একে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়: এমন এক অন্তর যা আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, এমন এক জীবনব্যবস্থা যেখানে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না এবং এমন এক মন যা বিনোদনে এতই মগ্ন যে খুশু হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি টেরই পায় না। এই তিনটি কারণ চিহ্নিত করাই হলো ফিরে আসার প্রথম ধাপ।
